Monday, June 8, 2026
প্রচ্ছদ ব্যবসা বানিজ্য বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য জোরদারে চুক্তি সই

বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য জোরদারে চুক্তি সই

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্যকে আরও জোরদার করতে একসঙ্গে কাজ করবে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি)। এ উপলক্ষে সোমবার (১৯ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে চুক্তি সই হয়।

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক বাজারভিত্তিক একটি সমীক্ষা পরিচালনা করবে আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং এবং কে এশিয়া। এই গবেষণার প্রাথমিক উদ্দেশ্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের উন্নয়ন।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, সমসাময়িক রপ্তানি নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমাদের ব্যবসার পরিসর ক্রমশই বাড়ছে। দেশটির সঙ্গে স্থাপিত চুক্তির মাধ্যমে এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও বাড়বে। এ ধরনের সমীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণে এইচএসবিসি এবং এফবিসিসিআইকে ধন্যবাদ জানাই।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে এক চমৎকার আত্মিক সম্পর্ক। যদিও বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য। বর্তমানে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর সীমাবদ্ধ। আমি মনে করি, উভয় দেশের নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়িক নেতাদের এই বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও বৈচিত্রকরণে এক সঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ৫ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ৪ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ছিল শূন্য দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাজ্যে আমাদের রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে নিটওয়্যার, বোনা পোশাক, হিমায়িত মাছ, পোশাক এবং টেক্সটাইলের মতো কয়েকটি আইটেম উল্লেখযোগ্য। তবে আমাদের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে।

এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী এবং তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। এই গবেষণা আমাদের নিজস্ব ব্যবসা ও বিনিয়োগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার সন্ধান পেতে সাহায্য করবে। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা সেসব সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে পারি এক সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয় শুধুমাত্র আমাদের অর্থনীতিকেই উপকৃত করে না, বরং একই সঙ্গে একটি সুদীর্ঘ ও টেকসই সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন এইচএসবিসি এশিয়া প্যাসিফিকের চিফ অব স্টাফ ফিলিপ ফেলোয়েস, এবং অনলাইন যোগাযোগমাধ্যম জুমের সাহায্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুক্তরাজ্যের নতুন বাণিজ্য প্রকল্প, রপ্তানি বাড়বে বাংলাদেশের
পরবর্তী নিবন্ধমোবাইলে দেড় লাখ কোটি টাকার রেকর্ড লেনদেন