Sunday, September 20, 2026
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উদ্বেগ, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রস্তাব গৃহীত

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উদ্বেগ, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রস্তাব গৃহীত

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গৃহীত এ প্রস্তাবে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান এবং পরিচালক এ এস এম নাসিরুদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের রায়ের নিন্দা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অবিলম্বে তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও বাংলাদেশে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ২০২৪ সালে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশেষ করে অধিকারের মামলা’ শীর্ষক প্রস্তাবটি উত্থাপন করে মধ্য ডানপন্থি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট, বামপন্থিসহ সাতটি গ্রুপ। ফ্রান্সের স্ত্রাসবুর্গে স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রস্তাবটি নিয়ে পার্লামেন্ট অধিবেশনের বিতর্কে আটজন সদস্য অংশ নেন। এর মধ্যে ছয়জন প্রস্তাবের পক্ষে এবং দুজন বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তৃতা করেন।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে গৃহীত প্রস্তাবটিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চর্চার বিষয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, মানবাধিকারকর্মী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কাজের নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবাধ বাজার সুবিধা ‘এভরিথিং বাট আর্মসের’ (ইবিএ) পরিসর আরও বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সনদের লঙ্ঘনের মাধ্যমে অধিকারের মামলাটি একটি পশ্চাদগামী পদক্ষেপ, যা উদ্বেগের। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ইবিএ সুবিধা অব্যাহত রাখা উচিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যা, বলপূর্বক অন্তর্ধান বা গুম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করাসহ বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে।

বলপূর্বক অন্তর্ধানের অভিযোগ তদন্তে একটি বিশেষ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করা হয়েছে প্রস্তাবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আদালতের শুনানিতে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করার জন্য সরকারের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য রেখে সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে উৎসাহিত করা হয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা তাদের প্রস্তাবে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরতে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস, ইইউ প্রতিনিধি ও বাংলাদেশে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দূতাবাসকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআয় ৫ লাখ টাকার কম হলেই ১ পাতার রিটার্ন ফরম
পরবর্তী নিবন্ধভাঙ্গা-মাওয়ায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ছুটলো ট্রেন