ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত শেয়ারবাজারে, বছরের সর্বোচ্চ লেনদেন

নিউজ ডেস্ক:
পতন কেটে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। প্রায় প্রতিদিন লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে বাড়ছে লেনদেনের গতি। ফলে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পরিমাণও কিছুটা কমে আসছে।

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটি। ফলে বাজারটিতে সবকটি মূল্যসূচক বেড়েছে। সেইসঙ্গে ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে চলতি বছরে সর্বোচ্চ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মতো অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। ফলে বাজারটিতেও বেড়েছে মূল্যসূচক। সেইসঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে শেষ ৮ কার্যদিবসের মধ্যে সাত কার্যদিবস মূল্যসূচক বাড়লো।

এর আগে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি কমে সবকটি মূল্যসূচক। সেইসঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও কমে। তবে দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার আবার ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে শেয়ারবাজার।

এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের শুরুতে দেখা দেয়া এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত। সেই সঙ্গে বাড়ে লেনদেনের গতি।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ২১৫ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার তালিকায় স্থান হয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৯টির। এছাড়া ৬৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ১৯২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫১৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে গত বছরের ১৮ নভেম্বরের পর ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো।

এ লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে পূবালী ব্যাংকের শেয়ার। টাকার অঙ্কে কোম্পানিটির ১৯ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সোনালি পেপারের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ২৮ টাকার। ৯ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, বিচ হ্যাচারি, বেস্ট হোল্ডিং এবং আলহাজ্ব টেক্সটাইল।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭১টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুদকসহ সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তায় দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে: টিআইবি
পরবর্তী নিবন্ধ৯৭তম অস্কারে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেল যেসব সিনেমা