রয়েল সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ অব ভুটান লিমিটেড-এর ডিএসই পরিদর্শন


নিজস্ব প্রতিবেদক:
রয়েল সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ অব ভুটান লিমিটেড-এর ৪ (চার) সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ডিএসই’র বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হওয়ার লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন মিসেস. খানদু ওয়াংমো (Mrs. Khandu Wangmo) মিস দর্জি জঙ্গম (Miss. Dorji Zangmo) মিঃ জ্যাংচুক ওয়াংদি (Mr. Jangchuk Wangdi) এবং মিস পেমা ইয়াংছেন (Miss Pema Yangchen)। কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার নূর-ই হাফসার সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিনিধিদল ডিএসই’র সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

পরিদর্শনের প্রথম দিনে ডিএসই’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, এফসিএস স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের পিয়ার ইকোনমি – বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটান—প্রযুক্তি ও বাজার উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়নের অনেক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতা বাজার কাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার মূলত ইক্যুইটি ভিত্তিক, তবে আমরা ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের এসএমই (SME) ও এটিবি (ATB)তে অন্তর্ভুক্ত করতে এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে নতুন সুযোগ তৈরি করতে কাজ করছি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়বে, যা পুঁজিবাজারের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরে ডিএসই’র প্রোডাক্ট অ্যান্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান সাইদ মাহমুদ জুবায়ের এক প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের কাঠামো, ট্রেডিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার অটোমেশন, ডিএসই’র বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবা, বাজারের সাম্প্রতিক উন্নয়ন এবং নতুন প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন।

উক্ত প্রেজেন্টেশনে তিনি বাংলাদেশের সরকারি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETF), রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (REIT), ডেরিভেটিভস, ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক বাজার এবং অ্যাসেট ব্যাকড সিকিউরিটিজ প্রবর্তনের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

এছাড়াও তিনি ডিএসই’র কৌশলগত অংশীদারিত্ব-বিশেষ করে শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে সহযোগিতা-টেকনোলজির ব্যবহার এবং টেকসই বিনিয়োগ (ESG) প্রচারে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের প্রধান রেগুলেটরি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূইয়াঁ পুঁজিবাজারের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

তিনি জানান, দেশের পুঁজিবাজার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯; বিএসইসি আইন, ১৯৯৩; ডিপজিটরি অ্যাক্ট, ১৯৯৯; এবং এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ সহ বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার আওতায় পরিচালিত হয়, যা বাজারের স্বচ্ছতা, সুশাসন ও বিনিয়োগকারীর আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

পুঁজিবাজারের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি ডিএসই, সিডিবিএল ও সিসিবিএলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাজার পরিচালনা ও বিনিয়োগকারীদের সেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে তিনি জানান।

ডিএসই’র ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর ২০১৩ সালে রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন (আরএডি) গঠন করা হয়, যা ৬টি ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি নিশ্চিত করে।

আইসিটি ডিভিশনের উপমহাব্যবস্থাপক হাসানুল করিম ভুটান প্রতিনিধিদলকে ডিএসই প্ল্যাটফর্ম ইকোসিস্টেম, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও সিস্টেম, আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট সিস্টেম, ডিজিটাল সাবমিশন ও ইনফরমেশন ডেসিমিনেশন সিস্টেম, নেটওয়ার্ক সিকিউরিটিজ সলিউশন, ডিএসই টাওয়ার ডেটা সেন্টার ফ্যাসিলিটি, আইসিটি গর্ভান্যান্স ও অপারেশন স্ট্রাকচার, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, ব্রোকার হোস্টেড ওএমএস, মার্কেট ডাটা সার্ভিস এবং ম্যাচিং ইঞ্জিন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

রয়েল সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ অফ ভুটান (RSEB)-এর প্রতিনিধিদল তিন দিনের সফর শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রতিনিধিদল বলেন, “এই সফরটি আমাদের জন্য ছিল অত্যন্ত তথ্যবহুল, সমৃদ্ধ ও অভিজ্ঞতামূলক। এটি আমাদেরকে একটি আধুনিক স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন কাঠামো সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা প্রদান করেছে।”

তাঁরা আরও বলেন, “DSE-এর বিভিন্ন বিভাগের উপস্থাপনা ছিল চিন্তাশীল ও জ্ঞানসমৃদ্ধ। এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের কার্যপ্রণালী, ট্রেডিং প্রক্রিয়া, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা, বাজার নজরদারি কাঠামো এবং প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক ফ্রেমওয়ার্ক সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা অর্জন করেছি।”

সফরকালে প্রতিনিধিদল বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস পরিদর্শন করে, যেখানে তাদের কার্যক্রম, ক্লায়েন্ট সেবা ও ট্রেডিং প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা বাংলাদেশি বাজার প্রেক্ষাপটে ব্রোকারেজ কার্যক্রমের বাস্তব প্রয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে।

প্রতিনিধিদল আরও উল্লেখ করে যে, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার এই বিনিময় উভয় প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। রয়েল সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ অফ ভুটান ভবিষ্যতেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে এই সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে আগ্রহী। প্রতিনিধিদল ডিএসইর সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমের অভিজ্ঞতাকে রয়েল সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ অব ভুটান লিমিটেড এর উন্নয়নে কাজে লাগানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিশেষে ডিএসই’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, এফসিএস প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কারিগরি সহায়তা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ রয়েল সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ অব ভুটান লিমিটেডের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতায় আগ্রহী । আমরা বিশ্বাস করি, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং উভয় দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিকে এমপ্লয়ি ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক
পরবর্তী নিবন্ধরংপুরে জনতা ব্যাংকের বিভাগীয় শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন অনুষ্ঠিত