
নিজস্ব প্রতিবেদক:: রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মালিকানাধীন সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক পিএলসি অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে ২০২৫ সালের শেষে ৮ হাজার কোটি টাকা মুনাফা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন ব্যাংকটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মোঃ শওকত আলী খান।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার অস্থিরতার মধ্যে রাষ্ট্রয়ত্ব সোনালী ব্যাংকের এই রেকর্ড মুনাফা অর্জন গোটা ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি ইতিবাচক সংবাদ।
এ প্রতিবেদককে সোনালীর এমডি বলেন, সোনালী ব্যাংক সব দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে মূলধন ঘাটতি থাকবে না, কমিশন ঘাটতি থাকবে না। ২০২৪ সাল শেষে ব্যাংকটি পরিচালন মুনাফা লাভ করে ৫ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। যা বিগত বছরের চেয়ে ১ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা বেশি। ২০২৩ সাল শেষে সোনালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার পরিমাণ ছিলো ৩ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। এ বছর অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে অনন্য উচ্চতায় পৌছবে সোনালী ব্যাংকের মুনাফা।
রেকর্ড মুনাফার পাশাপাশি ২০২৫ সালে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমানতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা হয়েছে যা গত বছরের চেয়ে ৯ হাজার কোটি টাকা বেশি।
এমডি শওকত আলী খান আরও বলেন, ‘সংকটের মধ্যেও খেলাপি ঋণ আদায় বেড়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করে আমরা খেলাপি ঋণ কমাতে কাজ করছি। উৎপাদনশীল খাতে ঋণ দিতে আমরা এসএমই ঋণে জোর দিয়েছি।
দেশের ব্যাংকিং জগতের পরিচিত মুখ বর্তমানে সর্ববৃহৎ বানিজ্যিক ব্যাংকটির এমডি শওকত খান তার ব্যাংকের ডিজিটিালাইজেশন সম্পর্কে বলেন, বিশ্বে পেপারলেস ব্যাংকিং একটি জনপ্রিয় ধারণা। বাংলাদেশও এত পিছিয়ে নেই। বর্তমানে সব মানুষই স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।
সোনালী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকায়। ২০১২ সালে ব্যাংকটির ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ কোটি টাকার উপরে। বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ঋণের ৩৩ শতাংশই সরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া।
হল–মার্কের ঘটনার পর সোনালী ব্যাংক তাদের ঋণের গতি কমিয়ে দেয়। কৌশলও পাল্টে ফেলে। আগ্রাসী ঋণ না দিয়ে ব্যাংকটি সরকারি বিভিন্ন পণ্যে বিনিয়োগ করতে থাকে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বিভিন্ন শিল্প গ্রুপকে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার বদলে অন্য ব্যাংককে টাকা ধার দিয়ে সুদ আয়ের পথ বেছে নেয়। আর তাতে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি মজবুত হতে শুরু করে। বেড়েছে গ্রাহকও। এক যুগ আগে ব্যাংকটির গ্রাহক ছিল ১ কোটির ঘরে। এখন সেই সংখ্যা ২ কোটি ১০ লাখ ছাড়িয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়াদে সরকারি-বেসরকারি খাতের এক ডজন ব্যাংকে বড় ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। তবে এই দুই মেয়াদে সোনালী ব্যাংক রক্ষা পায় প্রভাবশালীদের হাত থেকে। আওয়ামী লীগ সরকার–ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে চাইলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নানা কৌশলে তাদের ফিরিয়ে দেয়। আর তাতেই রক্ষা পায় ব্যাংকটি। সোনালী ব্যাংকে এখন সবচেয়ে বেশি আমানত। ২০২৪ সালে পরিচালন মুনাফায় শীর্ষে ছিল ব্যাংকটি। দেশজুড়ে ব্যাংক শাখার দিক থেকেও সোনালী ব্যাংক শীর্ষে। তবে পুরোনো কিছু খেলাপি গ্রাহক, হল–মার্ক কেলেঙ্কারির দায় এখনো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে ব্যাংকটিকে।
এদিকে সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. শওকত আলী খান ২০২৪ সালে ২১ অক্টোবর নিয়োগ পান। সোনালী ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কৃষি ব্যাংকের আগে মো. শওকত আলী খান রূপালী ব্যাংক পিএলসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৯৮ সালে বিআরসির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে রূপালী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে যোগদান করেন। দীর্ঘ ২৬ বছরের কর্মজীবনে অভিজ্ঞ এই ব্যাংকার রূপালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা, স্থানীয় কার্যালয় ও প্রধান কার্যালয়ের এইচআর, শিল্প ঋণ, এসএমই, আইটি, ট্রেজারি, সংস্থাপন, আইন, কৃষি ও ক্ষুদ্র ঋণ এবং আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেন।


