নতুন ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল বীমা ম্যানুয়াল উন্মোচন করলো: আইডিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বীমা খাতের সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নতুন ওয়েবসাইট এবং ডিজিটাল বীমা ম্যানুয়াল উন্মোচন করা হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বিআইএম ফাউন্ডেশনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত “বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নতুন ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল বীমা ম্যানুয়াল উন্মোচন অনুষ্ঠান-২০২৬”-এ এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বীমা অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি কাজী সাখাওয়াত হোসেন লিন্টু, বাংলাদেশ বীমা ফোরামের প্রেসিডেন্ট বিএম ইউসুফ আলী এবং আইডিআরএ নন-লাইফ অনুবিভাগের সদস্য আবু বকর সিদ্দিক।প্রধান অতিথি ড. আহসান এইচ মনসুর উন্মোচন করেন “বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নতুন ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল বীমা ম্যানুয়াল”। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বিএম ইউসুফ আলী বলেন, বীমা কোম্পানিগুলোর অর্থ ব্যাংকে জমা রয়েছে। অর্থের অভাবে তারা যেন বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থ না হয়—এ বিষয়ে গভর্নরের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। তিনি বর্তমান কর্তৃপক্ষের প্রশংসা জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে অনেক সংস্কারমূলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এই কর্তৃপক্ষ বীমা খাতকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং খাতে আস্থা ফিরে আসবে।

বিশেষ অতিথি কাজী সাখাওয়াত হোসেন লিন্টু বলেন, ডিজিটাল বীমা ও ম্যানুয়াল বীমা খাতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ম্যানুয়ালটি বীমা ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সকলের কাজে ব্যবহার হবে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম বলেন, ডিজিটাল ম্যানুয়ালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। যেকোনো আইন, বিধি-নিয়ম ও প্রক্রিয়া এই ম্যানুয়ালের মাধ্যমে সহজে অনুসরণ করা যাবে। এটি পাঠকবন্ধু; ই-বুক ফরম্যাটে উপলব্ধ, HTML ফরম্যাটে ব্যবহারযোগ্য এবং PDF ভার্সনে ডাউনলোড করা যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা আইনগত, ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কাজ করেছি। এই ম্যানুয়াল ডিজিটাল সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সংস্কার বাস্তবায়ন হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বীমা খাত উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যাবে; আর যদি না হয়, খাতের সমস্যাগুলো আরও জটিল ও ঘনিভূত হবে।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সুশাসন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে ভালো ফল পাওয়া যাবে না। ব্যাংকিং খাত থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা আমরা প্রদান করব। ব্যাপক গভর্নেন্স শর্ত আছে; এই শর্ত পালন না করলে হবে না। নিয়ন্ত্রক, বিমাকারী ও সকলের দায়িত্ব রয়েছে। বাজার নিজের গতিতে এগোতে পারে, তবে আমরা তা স্বাধীনভাবে হতে দিই না।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ববোধ থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগ, হিসাব-নিকাশ ও প্রিমিয়াম সংগ্রহ করা হয়েছে, কিন্তু গ্রাহকের দায়বদ্ধতা পরিশোধ করা যায়নি। অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে দায়বদ্ধতা দিতে পারা সম্ভব নয়। তিনি সিএফও ও সিইওদের নির্দেশ দেন, তহবিলকে সুন্দরভাবে এবং সঠিকভাবে পরিচালনা করতে।

বাংলাদেশে বীমা খাত এখনও ছোট। সরকার কিছু উদ্যোগ নিতে পারে, তবে বাজারই পণ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বীমা চলনশীল বা অচল সম্পত্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। তিনি মনে করেন, বাজার কিভাবে সম্প্রসারিত করা যায়, এ ক্ষেত্রে সরকারেরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত। বাজার সম্প্রসারণ না হলে দেশের জিডিপি কার্যত সীমিত থাকবে।

তিনি নতুন ওয়েবসাইটে নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে বিমাকারীদের তথ্য ইনপুট দিতে বলেছেন; অন্যথায় ডিজিটাইজেশন বিলম্বিত হবে। এছাড়া, যদি বাংলাদেশে নগদ লেনদেন কমানো যায়, রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকও এ লক্ষ্যে সহায়তা করবে। বিমাকারীদের নগদবিহীন (ক্যাশলেস)ভাবে লেনদেন পরিচালনার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা গাইডলাইন তৈরি করবে, যার মাধ্যমে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রিমিয়াম জমা দেওয়া হবে।

শেষে তিনি বিমাকারীদের প্রতি বলেন, স্বল্পমেয়াদী লাভের চেষ্টা করতে গিয়ে আমরা পথ হারিয়েছি। এখন এটিকে একটি উৎপাদনশীল খাত হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনির্বাচন সামনে রেখে নিয়মরক্ষার মুদ্রানীতি আজ
পরবর্তী নিবন্ধআবাসন খাতের ১০ এমপি: স্থবিরতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় রিহ্যাব