Wednesday, May 20, 2026
প্রচ্ছদ বিশ্ববাণিজ্য বড় পতনে দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে স্বর্ণের দাম

বড় পতনে দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও বিশ্বজুড়ে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। একদিনেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমেছে ২ শতাংশের বেশি। তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন ধারণার কারণেই মূলত বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বাজার থেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন। খবর রয়টার্সের।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স কাঁচা স্বর্ণের দাম ২ শতাংশ কমে চার হাজার ৪৭৪.৪০ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে এই দাম গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। অন্যদিকে, আগামী জুন মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৪৭৬.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘মারেক্স’-এর বিশেষজ্ঞ এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, আমরা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে প্রকৃত সুদের হার বাড়তে দেখছি। এর সঙ্গে মার্কিন ডলারও দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। এই দুটি কারণেই মূলত স্বর্ণের দামের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড (বন্ডের মুনাফা) বর্তমানে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। যেহেতু স্বর্ণে বিনিয়োগ করলে সরাসরি কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না, তাই বাজারে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের চেয়ে বন্ডে বিনিয়োগ করাকে বেশি লাভজনক মনে করেন। এর ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়। তাছাড়া, ডলারের দাম বাড়ার কারণে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

এদিকে, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খরচ ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন জানান, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণে বিনিয়োগের সুযোগ ঠিক থাকলেও, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে তেলের বাজারের এই অস্থিরতা কমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার চাহিদা আবার বাড়তে পারে।

বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতি নির্ধারণী সভার রিপোর্টের দিকে নজর রাখছেন, যা আগামীকাল বুধবার (২০ মে) প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই রিপোর্টের পরই মার্কিন সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ স্পষ্ট হবে।

স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও বড় ধস নেমেছে। আজ স্পট সিলভার বা রুপার দাম ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৩.২৫ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে এক হাজার ৯২৩.৫৫ ডলারে ও প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে এক হাজার ৩৭১.২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধআফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার ও মরক্কোর বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ