Sunday, July 5, 2026
প্রচ্ছদ শেয়ারবাজার জ্বালানি-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ভর করে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান

জ্বালানি-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ভর করে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রথম কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে দরপতন হলেও দ্বিতীয় কার্যদিবস রোববার (৫ জুলাই) বড় উত্থান হয়েছে। এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে জ্বালানি ও অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই সঙ্গে বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোও শেয়ারবাজারের বড় উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

জ্বালানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বস্ত্র কোম্পানির ওপর ভর করে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি লেনদেন বেড়ে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে গেছে।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে এ বাজারটিতেও মূল্যসূচক বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। তবে আধা ঘণ্টার মধ্যে দাম কমার তালিকা বড় হয়। এতে সূচকও কিছুটা ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই সঙ্গে জ্বালানি ও বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোও দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে। এতে সূচকও ঋণাত্মক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে, যা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত।

এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৭৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫৩টির এবং ৫৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অন্যদিকে আর্থিক খাতের ১৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ৪টির দাম কমেছে। জ্বালানি খাতের ১৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে দাম কমেছে ৩টির। আর বস্ত্র খাতের ৩২টির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ১৮টির দাম কমেছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭৫টির দাম কমেছে এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪২টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫০টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭টির দাম কমেছে এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৯ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯১ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৪৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৯০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৫৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকার। ৪০ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- আইপিডিসি ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, আইটি কনসালটেন্টস, ফারইস্টা নিটিং, শাহাজিবাজার পাওয়ার এবং বিএসআরএম স্টিল।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৯৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৬টির এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৬৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবেসরকারি খাতই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত: আশিক চৌধুরী
পরবর্তী নিবন্ধঅর্থনীতিতে সিএমএসএমইর অবদান ৬০ শতাংশ করতে চায় সরকার