
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে (১৯-২৩ জুলাই) নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এ সময়ে মূল্যসূচকে বড় পতনের পাশাপাশি লেনদেনেও ভাটা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি, দাম কমার তালিকায় যুক্ত হয়েছে বেশিরভাগ শেয়ার ও ইউনিট। এতে সার্বিকভাবে এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন কমেছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে। আর শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ২৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া, ডিএস ৩০ সূচক গত সপ্তাহে ৩৫ পয়েন্ট হারিয়ে ২ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
একই সময়ে, বাজারটিতে সাপ্তাহিক মোট লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২৭ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩১৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকায়। এক্সচেঞ্জটিতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। যেখানে আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৭৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন ৩৯২টি শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ১২০টির, দাম কমেছে ২৪০টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির দাম। বেশিরভাগ সিকিউরিটিজের দাম কমায় এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন ৭ লাখ ১০ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা থেকে কমে ৭ লাখ ১ হাজার ২৭১ কোটি টাকায় নেমেছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৯ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহে প্রায় ৬১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমায় সার্বিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই নেতিবাচক প্রভাবের নেপথ্যে রয়েছে সম্প্রতি প্রস্তাবিত (খসড়া) মার্জিন বিধিমালায় যুক্ত হওয়া ‘পিবি রেশিও’।
মূলত, এই ‘পিবি রেশিও’ আতঙ্কে বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমেছে, যা সার্বিকভাবে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গত সপ্তাহে বিমা খাতে তালিকাভুক্ত ৫৮টি বিমা কোম্পানির মধ্যে ৫২টির দাম ব্যাপকভাবে কমেছে।


