Monday, August 10, 2026
প্রচ্ছদ ব্যাংক-বীমা চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৫ ল্যাপটপ দিচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৫ ল্যাপটপ দিচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

উত্তরাঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ-এর মাধ্যমে ২৫টি ল্যাপটপ দিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এই দুই প্রতিষ্ঠানের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল চর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষা অব্যাহত রাখা, ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা । এই ল্যাপটপগুলোর সঠিক ব্যবহার প্রকল্পের এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী বন্যা, নদীভাঙন এবং সীমিত অবকাঠামোর কারণে নিয়মিত পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, যা ওই অঞ্চলগুলোতে শিক্ষার হার কমে যাওয়া ও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ।

গত এক বছরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ ও ফ্রেন্ডশিপের যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে পাঁচটি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে স্টারলিংক সংযোগ চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ও ডিজিটাল শিক্ষার সুবিধা পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পরীক্ষার ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং ঝরে পড়ার হারও কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলছে।

এ প্রসঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এনামুল হক বলেন, “গত এক বছরে ফ্রেন্ডশিপ-এর সঙ্গে আমাদের এই উদ্যোগ চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। পাঁচটি বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ চালু হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ও পরীক্ষার ফলাফলে উন্নতি হয়েছে। এছাড়া ল্যাপটপগুলো শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করবে করবে বলে আমি মনে করি।“

‌‌ফ্রেন্ডশিপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান বলেন, ‘দুর্গম চরাঞ্চলের একটি শিশুর হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়ার অর্থ কেবল প্রযুক্তিগত সুবিধা দেওয়াই নয়; বরং তার সামনে একটি জ্ঞানের দ্বার উন্মোচন করে দেওয়া। শুধু তাই নয় এর মাধ্যমে সে চরের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক পরিবেশের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ পায়। পাশাপাশি আরও বৃহৎ পরিসরে স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে শিশুটি আত্মবিশ্বাসী হয় এবং তার মনে জাগে মর্যাদাবোধ ও নতুন আশার আলো।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড এবং ফ্রেন্ডশিপ ২০১৬ সাল অর্থাৎ আট বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করছে। মানসম্মত শিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষা, ক্যারিয়ার গাইডেন্স, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, পরিবেশ ও ভাষা শিক্ষা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শেখার সুযোগের মাধ্যমে তারা ইতিমধ্যে বহু শিক্ষার্থীকে আধুনিক ও ডিজিটাল বিশ্বে যোগ্য হয়ে উঠতে সহায়তা করেছে এবং বর্তমানেও করে যাচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের উদ্যোগ
পরবর্তী নিবন্ধফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী বুঝে পেল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক