
আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও (২২ সেপ্টেম্বর) দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। তবে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
এর আগে টানা দরপতন থেকে বেরিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরে শেয়ারবাজার। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত টানা চার কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী ছিল শেয়ারবাজার। তবে রোববার রাতে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ায় সরকার। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সোমবার শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়।
এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। মাঝে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও শেষদিকে আবার পতন হয়। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই সব খাত মিলিয়ে ১০৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এছাড়া ৫৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১৭টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪৭টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৩টির এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ১৯টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ৭টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় শূন্য দশমিক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক এক পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১০৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
প্রধান মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৯১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৮৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে গত ১৮ আগস্টের পর ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হলো। ১৮ আগস্ট ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেন হয়।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার। ২২ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সায়হাম টেক্সটাইল, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, লাভেলো আইসক্রিম, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইল এবং একমি পেস্টিসাইড।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮১টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮৫টির দাম কমেছে এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৬ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ২ লাখ টাকা।


