
এক কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের শেয়ারবাজারে আবার দরপতন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। তবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি মূল্যসূচকও বেড়েছে।
এর আগে টানা দুই কার্যদিবস দরপতনের পর বুধবার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। সেই সঙ্গে বাড়ে লেনদেনর পরিমাণ। ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।
এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এতে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলবে এমন প্রত্যাশা করতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা।
কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে বাজারের চিত্র বদলে যেতে থাকে। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় নাম লেখায়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত চলে এই প্রবণতা। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই সব খাত মিলে ১৫৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ১৮৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৪৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১২ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৫৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৮৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৩ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জিকিউ বলপেনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২১ লাখ টাকার। ১৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এনভয় টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, ব্র্যাক ব্যাংক, সায়হাম টেক্সটাইল, সেনা ইন্স্যুরেন্স এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭৪টির দাম কমেছে এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪১ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।


