Saturday, September 5, 2026
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ আয়কর রিটার্নে আয়-ব্যয়ের তথ্যে গরমিল পেলে ব্যবস্থা নেবে এনবিআর

আয়কর রিটার্নে আয়-ব্যয়ের তথ্যে গরমিল পেলে ব্যবস্থা নেবে এনবিআর

আয়কর রিটার্নে বছরে ১২ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন একজন করদাতা। তবে একই সময়ে তার ব্যাংক হিসাবে লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

শুধু ব্যাংক লেনদেনই নয়, তিনি ৫০ লাখ টাকার গাড়ি কিনেছেন, ১ কোটি টাকার জমি কিনেছেন এবং বছরে পাঁচবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন।ঘোষিত আয়, ব্যয় ও সম্পদের মধ্যে এমন বড় ধরনের অসামঞ্জস্য এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

কর ফাঁকি রোধ ও করজাল সম্প্রসারণে করদাতার আর্থিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন উৎসের তথ্য এক জায়গায় এনে বিশ্লেষণের উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআরের কর বিভাগ।

নতুন ব্যবস্থায় আয়কর রিটার্নে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে ব্যাংক লেনদেন, ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার, বিদেশ ভ্রমণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় ব্যয়, গাড়ি কেনা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে দেখা হবে।

কোথাও অস্বাভাবিক গরমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে উচ্চঝুঁকির তালিকায় রেখে পরবর্তী সময়ে ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা ও কর নির্ধারণ করা হবে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, করহার না বাড়িয়ে করভিত্তি সম্প্রসারণ, প্রকৃত আয় ও সম্পদের তথ্য শনাক্তকরণ, কর ফাঁকি প্রতিরোধ, স্বেচ্ছা কর পরিপালন বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর আয়কর প্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শুধু টিআইএন ইস্যুর সংখ্যা বাড়ানোকে করভিত্তি সম্প্রসারণ হিসেবে না দেখে প্রকৃত করদাতাকে শনাক্ত করে সক্রিয় কর পরিপালনের আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এনবিআরের আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তারা রাজস্ব আদায় বাড়াতে বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

বৈঠকের কার্যপত্রে করদাতাদের সমন্বিত প্রোফাইল তৈরি, তৃতীয় পক্ষের তথ্যের সঙ্গে রিটার্নের তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং ঝুঁকিভিত্তিক অডিট ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এনবিআরের পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘ন্যাশনাল ইনকাম ট্যাক্স ডাটা ম্যাচিং সিস্টেম’। এর মাধ্যমে করদাতার রিটার্নে ঘোষিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি ও তৃতীয় পক্ষের উৎস থেকে পাওয়া তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে তুলনা করা হবে।

ব্যাংক হিসাব ও বড় অঙ্কের লেনদেন, জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাটের ক্রয়-বিক্রয়, গাড়ির মালিকানা, ব্যবসায়িক লাইসেন্স, আমদানি-রপ্তানি, ক্রেডিট কার্ড ব্যয়, বিদেশ ভ্রমণ, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, সরকারি প্রকিউরমেন্ট, উচ্চমূল্যের ইউটিলিটি সংযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় ব্যয়, ডিজিটাল ব্যবসা ও ই-কমার্স, পেশাজীবীদের আয় এবং ভাড়া থেকে আয়সহ বিভিন্ন তথ্য এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধব্যাংক রেজল্যুশন বিল সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ
পরবর্তী নিবন্ধএক বছরের মধ্যে বদলে যাবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান