Tuesday, September 8, 2026
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হলে পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হলে পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হলে পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে

মঙ্গলবার চট্টগ্রামে সিএসইর প্রধান কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান হয়/ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে এ বাজার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক, প্রযুক্তিগত ও ইকোসিস্টেম তিন ধরনের কাঠামো স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ) চট্টগ্রামে সিএসইর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ডাইভারসিফিকেশন অব বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট: প্রসপেক্ট অব কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক সচেতনতামূলক ও জ্ঞান বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম।

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার অনুষ্ঠানে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রয়োজনীয়তা, সিএসইর ভূমিকা এবং এ-সংক্রান্ত গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারকে আরও প্রাণবন্ত ও বৈচিত্র্যময় করতে কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এ বাজার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় তিন ধরনের কাঠামো নিয়ন্ত্রক, প্রযুক্তিগত ও ইকোসিস্টেম স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, কমোডিটি মার্কেটের জন্য প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরির পাশাপাশি সিএসই তাদের পুরো ট্রেডিং সিস্টেমও আধুনিকায়ন করেছে। নতুন কাঠামোর সঙ্গে বর্তমান ইক্যুইটি মার্কেট, ডেরিভেটিভস মার্কেট এবং ইক্যুইটি ডেরিভেটিভস মার্কেটকে যুক্ত করা হয়েছে।

তবে কমোডিটি মার্কেটের কার্যকর ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। বর্তমানে দেশের কমোডিটি মার্কেট পুরোপুরি বিকশিত নয়। পণ্যের মূল্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ মূল্য নির্ধারণ নিশ্চিত করা গেলে এ বাজারকে একটি সুগঠিত মার্কেটে রূপান্তর করা সম্ভব।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কমোডিটি এক্সচেঞ্জই হতে পারে কার্যকর সমাধান। বিশ্বের যেসব দেশে কমোডিটি মার্কেট রয়েছে, সেসব দেশের বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অর্থনীতির সামগ্রিক ইকোসিস্টেমে এ বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তার মতে, একটি সুসংগঠিত কমোডিটি বাজার বিনিয়োগকারী ও দেশের অর্থনীতির জন্য আস্থার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে। বাংলাদেশে যত দ্রুত কার্যকর কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে, তত দ্রুত এর সুফল অর্থনীতির সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রধান অতিথি মির্জা সালমান ইস্পাহানি বলেন, সিএসই সব সময় নতুন নতুন পণ্য ও সেবা পুঁজিবাজারে আনার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে বাজার প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম তৈরির কাজও চলছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন পণ্য সংযোজন এবং বাজারের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠিত হলে পণ্য উৎপাদক, ভোক্তা এবং এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ উপকৃত হবে।

মির্জা সালমান ইস্পাহানি আরও বলেন, কমোডিটি মার্কেট চালু হলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে এবং একই সঙ্গে পুঁজিবাজারও লাভবান হবে। এ বাজার নিয়ে তারা আশাবাদী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিএসইর চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। পরে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বিষয়ে মূল উপস্থাপনা করেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার।

জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন

Jagonews24 Google News Channel

অনুষ্ঠানে সিএসইর জিএম ও হেড অব আইসিটি ডিভিশন মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, জিএম ও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রকল্পের কনভেনার মো. মর্তুজা আলম, জিএম ও হেড অব বিজনেস অ্যান্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট মোহাম্মদ মনিরুল হক, ডিজিএম ও হেড অব লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স একেএম শাহরোজ আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকর ফাঁকি ও খেলাপি ঋণগ্রহীতারা পাবেন না সেরা করদাতার সম্মাননা
পরবর্তী নিবন্ধ২০২৭ সালে হজ প্যাকেজে সর্বোচ্চ কমবে ৭৫ হাজার টাকা:সংসদে ধর্মমন্ত্রী