Saturday, October 24, 2026
প্রচ্ছদ ব্যবসা বানিজ্য শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি আসার দুয়ার খুলছে

শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি আসার দুয়ার খুলছে

দীর্ঘদিন ধরে দরপতন, লেনদেনে মন্দা ও নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির সংকটে ভুগছে দেশের পুঁজিবাজার। একদিকে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনে বিনিয়োগকারীদের লোকসান বাড়ছে, অন্যদিকে নতুন প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অভাবে বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ ও গভীরতা কমছে। গত আড়াই বছরে নতুন কোনো কোম্পানি আইপিওর আবেদন না করায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে আইপিও নীতিমালা সংশোধন এবং সরাসরি তালিকাভুক্তির নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ায় বাজারে নতুন কোম্পানি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত করলেই সংকট কাটবে না। বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো, নজরদারি জোরদার করা ও ভালো কোম্পানির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, মানসম্মত কোম্পানির অভাব, আইপিও নিয়ে অনিশ্চয়তা ও দুর্বল নজরদারির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তা কাটাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।বাজারে নেই স্পষ্ট স্থিতিশীলতার লক্ষণ

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে। আগস্টের শেষ দিকে সূচক ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টের ঘরে থাকলেও অক্টোবরের প্রথমার্ধে তা নেমে ৫ হাজার ৪০০ পয়েন্টের আশপাশে চলে আসে।

গত ৬ অক্টোবর ডিএসইএক্স ২০ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪২৪ দশমিক ৬২ পয়েন্টে নেমেছিল। ওই সময় টানা চার কার্যদিবসে সূচকটি প্রায় ১২৫ পয়েন্ট হারায়। ১৮ অক্টোবর তা আরও কমে ৫ হাজার ৪২২ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অবশ্য ১৯ অক্টোবর ২৭ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বেড়ে এটি ৫ হাজার ৪৫০ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে ওঠে। অর্থাৎ, কোনো কোনো দিন সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও সামগ্রিকভাবে বাজারে স্থিতিশীলতার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সূচকের সাময়িক উত্থানকে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ, কতটি শেয়ারের দাম বাড়ছে বা কমছে এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের প্রবণতাও বিবেচনায় নিতে হয়। অক্টোবরের বিভিন্ন কার্যদিবসে দরপতন ও সীমিত লেনদেনের চিত্র বাজারের দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে।

একটি ব্রোকারেজ হাউজের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বাজারে যখন অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমে, তখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে শেয়ার কেনার আগ্রহ কমে যায়। অনেকে লোকসানে থাকা শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আবার কেউ আরও দরপতনের আশঙ্কায় হাতে থাকা অর্থ বিনিয়োগ না করে অপেক্ষা করেন।

তিনি জানান, দরপতনের আশঙ্কা দেখা দিলে বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ে এবং নতুন অর্থের প্রবাহ কমে যায়। একপর্যায়ে কম লেনদেন, দরপতন ও আস্থার সংকট পরস্পরকে আরও তীব্র করে তোলে। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে সেই চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে সূচকের ওঠানামাকে একমাত্র সংকটের মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম, কোম্পানির মুনাফা, নগদ প্রবাহ, লভ্যাংশ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ২০২৭ সালেও জ্বালানি সংকট থাকবে: আইইএ প্রধান