
(মেহেরীন চৌধুরীর জন্য—একটি এলিজি)
কলমেঃ আতিক রহমান।
২১ জুলাই, ২০২৫—ঢাকার আকাশে নেমে এলো আগুনের ছায়া, আর আমরা হারিয়ে ফেললাম অনেকগুলো নিষ্পাপ মুখ, হারালাম একজন মানুষ, একজন শিক্ষিকা, একজন প্রাণরক্ষাকারী মা—মেহেরীন চৌধুরীকে।
একজন নারী, যিনি প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দিতেন স্নেহ,
সেই মেহেরীন ম্যাডাম, নিজের শরীরকে ঢাল করে রক্ষা করলেন অন্তত ২০টি প্রাণ।
তাঁর শরীরের শতভাগ দগ্ধ হলো,
কিন্তু তাঁর আত্মা?—সে তো আগুনকে অগ্রাহ্য করে উড়াল দিলো এক অনন্ত জ্যোতির দিকে।
কেউ বলেছিল:
“আমার ছেলের লাশ চাই না—
শুধু এক টুকরো কয়লা দিন,
যেন কবরে নামিয়ে বলতে পারি—
এই আমার সন্তান।”
এই বাক্য শুধু শোক নয়, এই বাক্য জাতির বিবেকের সৎকারের গান।
কিন্তু তুমি, মেহেরীন…
তুমি তো সেই আলো, যা পোড়ার পরেও জ্বলতে জানে।
তুমি শুধু একজন শিক্ষিকা নও,
তুমি এই দেশের অনাদৃত বিবেক,
এই সভ্যতার বিব্রত চোখ,
এই সমাজের শুদ্ধতম প্রতিরূপ।
তোমার ছবি আমরা শেয়ার করিনি—লজ্জায়।
তোমার বীরত্ব আমরা প্রচার করিনি—ভিতরে কেঁপে উঠেছি।
তোমার মৃত্যুতে আমরা শুধু কাঁদিনি—আমরা আয়নায় মুখ লুকিয়েছি।
হে আগুনে পুড়ে ওঠা মা,
তুমি আমাদের শিখিয়ে গেলে—
মানুষ কাকে বলে,
শিক্ষিকা মানে কেবল পাঠ নয়—প্রাণ দেওয়া।
হে আল্লাহ,
যদি আমাদের এই দেশ সত্যিই তোমার আশীর্বাদে নির্মিত হয়,
তবে আমাদের হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে দাও
মেহেরীন চৌধুরীর মতো সাহস, দায়বোধ, স্নেহ।
এ আগুনে পুড়ুক আমাদের ভণ্ডামি,
আমাদের স্বার্থপরতা, আমাদের নীরবতা।
আর জন্ম নিক সেই আলোর সন্তান—
যাঁরা মৃত্যু দিয়ে শেখায় কীভাবে বাঁচতে হয়।
এ তোমার মৃত্যু নয়, এ আমাদের বিবেকের জন্ম।
তুমি নেই—তবু আছো।
তুমি পুড়ে গেলে—তবু আমরা জ্বলছি তোমার শিখায়।
— এক আহত নাগরিকের পক্ষ থেকে মেহেরীন চৌধুরীর পবিত্র স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। আতিক রহমান, atikmcj@gmail.com


