
দীর্ঘ ২২ বছর পর শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরকে ঘিরে পুরো জেলায় শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম উদ্বোধন ও পরিদর্শন করবেন। এর মধ্যে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন, নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নিয়ে দলীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকালে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোদ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। পরে দুপুর পৌনে ২টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন বিশ্ব খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সবশেষে বিকেল ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন দলের প্রধান।
চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চাঁদপুর সফরকে ঘিরে জেলার তরুণদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি হয়েছে। তিনি প্রত্যাশা করেন, শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়ক চার লেনে উন্নীত করা, জেলাকে পর্যটন শিল্পে বিকশিত করা এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ বলেন, চাঁদপুরে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘দুটি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে ৩৭০ জনের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। একইসঙ্গে চাঁদপুর থেকে দেশের ২২ জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশাবাদী খুব ভালোভাবে আয়োজনটি সমাপ্ত করতে পারবো।’
এ বিষয়ে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, ‘এখানে সড়ক , নৌ ও রেলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভালো। চাঁদপুরে ইপিজেড করার মতো চমৎকার একটি জায়গা। এখানে ইপিজেড হলে চাঁদপুরের পাশাপাশি আশপাশের জেলার মানুষও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। অনেক দাবি-দাওয়ার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটি আমাদের অন্যতম একটি চাওয়া থাকবে।’


