Thursday, August 6, 2026
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জলবায়ু সহনশীল ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ

জলবায়ু সহনশীল ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ

নিজস্বপ্রতিবেদক

বর্তমান বিএনপি সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে। এমন অবস্থায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) উচ্চপর্যায়ের এক নীতি সংলাপের আয়োজন করেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের জলবায়ু-সহনশীল অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা: কৌশলগত ও বিনিয়োগ-উপযোগী জলবায়ু প্রকল্প ডিজাইনের মাধ্যমে জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এই সংলাপ হয়।

বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের (বিসিডিপি) আওতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি ইআরডির আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সেলের ৩৩তম উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি সহায়তায় আয়োজিত এ সংলাপে নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ এবং শিক্ষাবিদরা একত্র হন।

সংলাপটি আইসিএফসির ফ্ল্যাগশিপ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং বা সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচি ‘ভিশন থেকে অনুমোদন: উচ্চ-প্রভাবশালী ধারণাপত্র বা কনসেপ্ট নোটের মাধ্যমে জিসিএফ অর্থায়ন উন্মোচন’-এর দ্বিতীয় পর্ব হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রথম পর্বের অনলাইন পরিচিতিমূলক সেশনের ওপর ভিত্তি করে এটি অংশগ্রহণকারীদের তৃতীয় পর্বের জন্য প্রস্তুত করছে। তৃতীয় পর্বটি হলো- একটি আবাসিক জলবায়ু নেতৃত্ব ইনকিউবেশন ল্যাব, যেখানে তারা বিশেষজ্ঞের দিকনির্দেশনায় সবুজ জলবায়ু তহবিল বা গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের (জিসিএফ) বিনিয়োগ-উপযোগী ধারণাপত্র তৈরি করবেন।

উদ্বোধনী সেশনে ইআরডির ইউএন উইংয়ের উইং চিফ এ কে এম সোহেল স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। তার মূল বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং দেশটিকে জলবায়ু অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে প্রস্তাব জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের পিছিয়ে থাকার কথা অকপটে স্বীকার করে বেসরকারি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামোর আহ্বান জানান। অংশীদারত্ব, উদ্ভাবন ও যৌথ সমৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা একটি যৌথ দায়িত্ব, যা প্রকল্পের শক্ত মালিকানার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

সেশনে আরও বক্তব্য দেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং, যিনি জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার জন্য এডিবির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বড় পরিসরে জলবায়ু অর্থায়নের জন্য ব্যাংকযোগ্য ও বিনিয়োগ-উপযোগী প্রকল্প ডিজাইনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

নীতি সংলাপটি দুটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সভার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রতিটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইআরডির ইউএন উইংয়ের উইং চিফ এ কে এম সোহেল। তিনি বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা এবং আর্থিক সম্ভাবনার মধ্যে জলবায়ু সচেতনতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে চিত্রিত করেন এবং জলবায়ু বিজ্ঞানকে অর্থায়নযোগ্য পরিবর্তনের তত্ত্বে রূপান্তর করার কৌশলগত পথরেখা তুলে ধরেন।

প্রথম সেশনটি কৌশলগত প্রকল্প ডিজাইনের জন্য জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়। দ্বিতীয় সেশনে প্রকল্পের প্রস্তুতি এবং বৃহৎ পরিসরে জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সমাপনী সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। নির্বাচনি ইশতেহারে বর্ণিত প্রধানমন্ত্রীর দর্শনের প্রতিফলন ঘটিয়ে ড. তিতুমীর বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবী বাসযোগ্য রাখার যৌথ দায়িত্বের কথা বলেন। তিনি দেশের উন্নয়ন পথপরিক্রমা এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকে বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গে, বিশেষ করে কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক এবং প্যারিস চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ করতে হবে এবং বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলগুলোকে গতির সঙ্গে ও নমনীয় শর্তে জাতীয় আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিল রাখতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগার্ডিয়ান লাইফের সঙ্গে চুক্তি শ্রমিক কল্যাণের ‘উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’: বিকেএমইএ সভাপতি
পরবর্তী নিবন্ধমেঘনা ব্যাংকের ১৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত