
২০২৭ সালেও জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল। বিকল্প জ্বালানির উৎস খোঁজা এবং সরবরাহের নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন দেশের সরকার উদ্যোগ নিলেও আগামী বছরেও এই সংকটের পরিণতি বিশ্বকে মোকাবিলা করতে হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ফাতিহ বিরোল।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্টমেন্ট সামিট টুওয়ার্ডস কপ-৩১’ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বিরোল বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দেশের জ্বালানিনীতি পর্যালোচনা করে আগামী বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করার মতো তেমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।ফাতিহ বিরোল বলেন, ২০২৭ সালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আমি আশাবাদী নই। আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করার চেষ্টা করলেও এমন কোনো যুক্তি খুঁজে পাই না, যা আমাকে আশ্বস্ত করতে পারে।
তিনি বলেন, এই সংকট ২০২৭ সালেও কোনো না কোনোভাবে চলতে থাকবে। নতুন করে কোনো ক্ষত তৈরি না হলে বিশ্ব তখনো বর্তমান সংকটের ক্ষত সারিয়ে তোলার চেষ্টা করবে।
আইইএ প্রধান বলেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকট অর্থনীতি, কৃষি ও জ্বালানি খাতকে প্রভাবিত করছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার, কোম্পানি এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নতুন করে পর্যালোচনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আনাদোলু এজেন্সির তথ্য মতে, ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালের তেলসংকটের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন বিরোল। তার মতে, ওই দুটি সংকট পারমাণবিক জ্বালানির উন্নয়ন এবং যানবাহনের জ্বালানিদক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করেছিল।
বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ
কপ-৩১ সম্মেলনকে তুরস্কের জন্য ‘সোনালি সুযোগ’ এবং বিশ্বের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা হিসেবে বর্ণনা করেন বিরোল। তার মতে, বর্তমান সংকটকে কাজে লাগিয়ে সম্মেলনে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পক্ষে সমর্থন তৈরি করা সম্ভব।
বিশ্বে মোট জ্বালানি ব্যবহারে বিদ্যুতের অংশ ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার একটি প্রস্তাব তুলে ধরেন বিরোল। এ লক্ষ্যে আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে বিভিন্ন দেশকে প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোল বলেন, বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ালে একদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর মতপার্থক্যের এই সময়ে এটি দেশগুলোর জন্য একটি অভিন্ন লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।
এ ধরনের প্রতিশ্রুতি গৃহীত হলে বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারের কাছেও একটি সুস্পষ্ট বার্তা পৌঁছাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইইএ প্রধান বলেন, কপ-৩১ সম্মেলনের সাফল্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে-কতটি দেশ এতে অংশ নিচ্ছে এবং বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে দেশগুলো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে কি না।


