Monday, June 8, 2026
প্রচ্ছদ বাংলাদেশ দেশের ১০ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখ মানুষ, বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা

দেশের ১০ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখ মানুষ, বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক : দেশের দশটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ১২ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

শুক্রবার (০৫ জুলাই) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এমন তথ্য জানিয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ১০টি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে।

ব্ৰহ্মপুত্র, যমুনা নদ-নদীসমূহের পানির সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আরো দু-দিন পর্যন্ত ধীর গতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে।

গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীসমূহের পানির সমতল সার্বিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী থেকে অতিভারী এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এতে কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যার পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

এদিকে আগামী দু-দিনে পদ্মা নদী গোয়ালন্দ পয়েন্টে সতর্কসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। এই সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ঘাঘট নদীসমূহের পানির সমতল সময় বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল কতিপয় পয়েন্টে স্বল্পমেয়াদে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং ঘাঘট নদী সংলগ্ন গাইবান্ধা জেলার কতিপয় নিম্নাঞ্চল বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা অবনতি হতে পারে।

অন্যদিকে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যমুনাশ্বরী, করতোয়া, বাঙ্গালী, আপার করতোয়া, পুর্নভবা, টাঙ্গন, ইছামতি-যমুনা, আত্রাই, মহানন্দা এবং ছোট যমুনা নদীসমূহের পানির সমতলও সময় বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

সিলেট : অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে সিলেট জেলার অভ্যন্তরীণ নদনদীগুলোর পানি ৬টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৩টি উপজেলার ৩টি পৌরসভা ও ৯৩টি ইউনিয়নের ১ হাজার ১৮০টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত রয়েছে। প্রতিবেদনাধীন সময় পর্যন্ত উপজেলাসমূহের ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৯ হাজার ৩২৯ জন লোক রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি শুকনো ও রান্না করা খাবার এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত সিলেট জেলায় কোনো প্রাণহানি তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুনামগঞ্জ : অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে নদ-নদীর পানি বেড়ে জেলার ১২টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার ১২টি উপজেলার ৮০টি ইউনিয়নের ৮০ হাজার ২০৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং মোট ৭ লাখ ৯২ হাজার ৭৫৭ জন লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যার্তদের আশ্রয়ের জন্য জেলায় মোট ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ১ হাজার ৬৮১ জন লোককে এবং ১১৩টি গবাদিপশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজার : সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার ৩৮টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ৬২ হাজার ৭৯১টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ৩ লাখ ১৪ হাজার ২২৭ জন লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার্তদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য জেলায় মোট ১১০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ৮ হাজার ২১০ জন লোক এবং ৬৯৬টি গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণী আশ্রয় নিয়েছে।

রংপুর : সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে।

গাইবান্ধা : সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং ৪টি উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। মোট ৭ হাজার ৮২০টি পরিবারের আনুমানিক ৭১ হাজার ২৮০ জন লোক পানিবন্দি রয়েছে।

জামালপুর: সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ৭টি উপজেলার ৭ হাজার ১০৩টি পরিবারের ৩৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফেনী : সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে ফেনী জেলার মহুরী ও কহুয়া নদীর বাধ ভেঙে জেলার ফুলগাজী, পরশুরাম ও ফেনী সদর উপজেলার মোট ৯টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় পানিবন্দি পরিবার সংখ্যা ৩ হাজার ৪০ ও পানিবন্দি লোকসংখ্যা ১২ হাজার ১৬৮ জন। ২১ বছর বয়সের এক ব্যক্তি মাছ ধরতে গিয়ে বাধ ভেঙে মারা গেছেন।

কুড়িগ্রাম : সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়ায় কুড়িগ্রাম জেলার ৩৫০ দশমিক ১৭ বর্গ কি.মি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। একটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ২০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে সেখানে।

রাঙামাটি : অতিবৃষ্টির ফলে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয় এবং ৪৫-৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

বগুড়া : সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ৩টি উপজেলার পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ২০ হাজার ৫৭০টি ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৭৮ হাজার ৩২৩ জন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান: ২২ জন এআইপি কার্ড পাচ্ছেন রোববার
পরবর্তী নিবন্ধশেখ মুজিবের স্কুলে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী