
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বৈঠকে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দেওয়া, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং পরিচালনায় সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে গভর্নরের পাশাপাশি ডেপুটি গভর্নর ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান সেলিম রহমানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অংশ নেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সম্প্রতি পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে ব্যাংকটির বর্তমান অবস্থা, সুশাসন, ঋণ আদায় এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে বিশেষভাবে খেলাপি ঋণ আদায়ের গতি বাড়ানো এবং ব্যাংকের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন গভর্নর।
বৈঠক শেষে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বদিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মনীতি মেনে ব্যাংক পরিচালনা এবং ঋণ আদায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলেছে। পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নির্বাহী কমিটি ঋণ আদায় ও নতুন বিনিয়োগ কার্যক্রম তদারকি করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পর্যবেক্ষক যুক্ত থাকবেন। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।
এর আগে, গত ১৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালকের পাশাপাশি উদ্যোক্তা-শেয়ারধারীদের মধ্য থেকে ১৪ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়। পরে তাদের মধ্য থেকেই চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন কমিটির প্রধান নির্বাচন করা হয়।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপ ও কেডিএস গ্রুপের হাতে। সে সময় চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলম গ্রুপের সাইফুল আলমের ভাই আবদুস সালাম। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ওই পর্ষদ বাতিল করে পাঁচ সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগ দেয়। প্রায় দুই বছর পর পুনর্গঠিত পর্ষদের মাধ্যমে উদ্যোক্তা-শেয়ারধারীদের প্রতিনিধিরা আবারও ব্যাংকটির পরিচালনায় যুক্ত হয়েছেন।


