Friday, July 24, 2026
প্রচ্ছদ ব্যবসা বানিজ্য দেশে নতুন বিনিয়োগের ৯২ শতাংশই চীনের: বিডা

দেশে নতুন বিনিয়োগের ৯২ শতাংশই চীনের: বিডা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) উদ্যোগে গড়ে ওঠা নতুন বিদেশি বিনিয়োগ পাইপলাইনের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছানো ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের মধ্যে প্রায় ৩৬৭ মিলিয়ন ডলার বা ৯২ শতাংশই এসেছে চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। এসব বিনিয়োগ মূলত উন্নত বস্ত্র, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ও নির্মাণসামগ্রী খাতে হচ্ছে।

এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) জনসংযোগ দপ্তর।

২০২৫ সালে বিডা যে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি করেছিল, তারই অংশ হিসেবে এসব বিনিয়োগ এখন বাস্তবায়নের পথে। বিডার তথ্য অনুযায়ী, ২০টি দেশের সম্ভাব্য ৭০ বিনিয়োগকারীর মধ্যে ১৫ শতাংশের বেশি প্রকল্প এরইমধ্যে সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আন্তর্জাতিক গড় বাস্তবায়ন হারের চেয়েও ভালো।

বিডা জানায়, এদিকে ২০২৬ সালের জন্য আরও ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরির কাজ চলছে। এরইমধ্যে ২৬৪টি নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছে।

বিনিয়োগের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি হংকংভিত্তিক হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজের। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রাথমিক ১৫০ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাড়িয়ে ৩০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সহযোগিতায় এ বিনিয়োগ বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে।

বিডা জানায়, এই প্রকল্পের আওতায় দুই ধাপে প্রায় ২৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রথম ধাপে মিরসরাইয়ে ৮০ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক কারখানা এবং দ্বিতীয় ধাপে কেরানীগঞ্জে ২২০ মিলিয়ন ডলারের সমন্বিত টেক্সটাইল কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। এতে উন্নত বস্ত্র প্রযুক্তি ও উচ্চমূল্যের কাপড় উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মূল্য সংযোজন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া চীনের হেংলি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান লিড বাংলাদেশ টেক্সটাইল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে একটি স্বয়ংক্রিয় টেক্সটাইল কারখানা স্থাপন করছে। এই বিনিয়োগ পোশাকশিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান চায়না লেসো গ্রুপ চট্টগ্রামের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে একটি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে পিভিসি ও পিইএক্স পাইপ, সৌর প্যানেল, স্যানিটারি সামগ্রী, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, দরজা-জানালা, পানি পরিশোধন যন্ত্র, কেবল, আলোকসজ্জা সরঞ্জাম এবং অগ্নিনির্বাপণ পণ্য উৎপাদন করা হবে। এতে নির্মাণসামগ্রীর আমদানি নির্ভরতা কমার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতও উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। চীনা বিনিয়োগ শুধু মূলধনই আনছে না, সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগও সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চীন ও হংকং থেকে বাংলাদেশে মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাজ্যের ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারের পর এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি এবং সিঙ্গাপুরের ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধটানা বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে সবজির দাম চড়া: নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের
পরবর্তী নিবন্ধগ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন বিদেশি প্রকৌশলীরা