
চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমানত প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে রয়েছে পঞ্চম প্রজন্মের ব্যাংকগুলো। এ সময়ে আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় এসব ব্যাংকের আমানত ৩৮ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে। তবে আগের প্রান্তিকের সঙ্গে তুলনায়ও পঞ্চম প্রজন্মের ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। মার্চ শেষে এ পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছে ২ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর গত বছরের জুনের তুলনায় আমানত বেড়েছে ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ।
বেসরকারি ব্যাংকের প্রজন্মভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে পঞ্চম প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর আমানত মার্চের তুলনায় ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংকে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাংকে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম প্রজন্মের ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে মাত্র ০.১০ শতাংশ।
বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে প্রতিষ্ঠার সময় অনুযায়ী পাঁচটি প্রজন্মে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম প্রজন্মের ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭২ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে। এ শ্রেণিতে রয়েছে ১০টি ব্যাংক। দ্বিতীয় প্রজন্মের আটটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯২ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে।
তৃতীয় প্রজন্মের ১২টি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে। চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নয়টি ব্যাংক। আর পঞ্চম প্রজন্মের আওতায় রয়েছে ২০১৩ সালের পর প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি ব্যাংকগুলো।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে পঞ্চম প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর আমানত দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। মার্চ শেষে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ শ্রেণির ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ৩৮ দশমিক ১০ শতাংশ।
চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর আমানত জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। মার্চের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমানত বেড়েছে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ।
দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর আমানত এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে ৩ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এক বছরের ব্যবধানে এ শ্রেণির ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ।
তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর আমানত তিন মাসে ৩ শতাংশ বেড়ে জুন শেষে ৪ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। গত বছরের জুনের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ।
অন্যদিকে প্রথম প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর আমানত মার্চের তুলনায় জুনে মাত্র ০.১০ শতাংশ বেড়ে ৫ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে এক বছরের ব্যবধানে এসব ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১০ শতাংশ।
ব্যাংকের মালিকানা ও কার্যক্রমের ধরন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে আমানত বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং প্রচলিত ধারার বেসরকারি ব্যাংকগুলো।
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানত মার্চের ৫ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে জুনে ৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। তিন মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ।
সব বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে জুন শেষে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। মার্চের তুলনায় এ খাতে আমানত বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত বছরের জুনের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ শতাংশ।
বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর আমানতও বেড়েছে। মার্চের তুলনায় ২ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে জুন শেষে এ শ্রেণির ব্যাংকগুলোর আমানত দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে সামগ্রিক ব্যাংক খাতে আমানত বাড়লেও পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোতে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এপ্রিল-জুন সময়ে এসব ব্যাংকের আমানত ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে ৩ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে। মার্চ শেষে এ পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে আমানত কমেছে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতেও পতন হয়েছে। মার্চে এসব ব্যাংকের আমানত ছিল ৮৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। জুন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। তিন মাসে আমানত কমেছে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে কমেছে সামান্য ০.১০ শতাংশ।
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশের ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি হলেও তা সব ধরনের ব্যাংকে সমানভাবে হয়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত ও প্রচলিত ধারার বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়লেও পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ও বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আমানত কমেছে। একইভাবে বেসরকারি ব্যাংকের প্রজন্মভিত্তিক প্রবৃদ্ধিতেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে।


