Wednesday, November 4, 2026
প্রচ্ছদ শেয়ারবাজার শ্রমিকদের আন্দোলনের ‘প্রভাব’ শেয়ারবাজারে

শ্রমিকদের আন্দোলনের ‘প্রভাব’ শেয়ারবাজারে

দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারা অব্যাহত। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও (৩ নভেম্বর) শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে।

এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে।  

শ্রমিক বিক্ষোভ ও শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতার পরোক্ষ প্রভাবে শেয়ারবাজারে এই দরপতন হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রি করে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে বাজারে টানা বড় দরপতন দেখা যাচ্ছে।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, এমনিতেই বাজার মন্দার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে গার্মেন্টেসের নূন্যতম মজুরি নিয়ে সৃষ্টি হওয়া অস্থিতিশীল অবস্থা পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও এর ঘটনা ঘটনায় সবার মধ্যেই এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে। যে চাপ বাজার নিতে পারছে না। এজন্যই শেয়ারবাজারে দরপতন হচ্ছে।

ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়ছে। বর্তমান সরকারের আট মাসের মধ্যে এত বড় শ্রমিক আন্দোলন হবে তা প্রত্যাশিত ছিল না। তবে শ্রমিকদের দাবিও অযৌক্তিক নয়। রাজধানী ঢাকায় এমন আন্দোলন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্বেও পড়তে পারে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে চাপ তৈরির পেছনে শ্রমিক আন্দোলনের চেয়েও বড় কারণ হলো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো দেখা যাচ্ছে না। এমনকি ব্যাংকে গিয়েও অনেকে প্রয়োজনমতো টাকা পাচ্ছেন না। এ কারণে মানুষ হাতে নগদ টাকা রাখতে চাইছে।

তিনি আরও বলেন, নগদ অর্থের চাহিদা মেটাতে অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজার থেকে কিছু বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছেন। তারা হাতে নগদ টাকা রেখে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এসব কারণেও বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হচ্ছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। কিন্তু লেনদেনের সময় আধাঘণ্টা পার হওয়ার পরেই বাজারের চিত্র বদলে যায়। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় নাম লেখায়। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাম কমার তালিকা বড় হতে থাকে। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২৬৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৫১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫৪টির দাম কমেছে এবং ১৩টি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৪টির দাম কমেছে এবং ৪টি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৮টির এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ১টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২২টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিকে মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে এনভয় টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মতিন স্পিনিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার। ১৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ব্র্যাক ব্যাংক, শাহজিবাজার পাওয়ার, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, মালেক স্পিনিং এবং সায়হাম টেক্সটাইল।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮১টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪৫টির দাম কমেছে এবং ১১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৭৪ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধতুর্কি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
পরবর্তী নিবন্ধশ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা