Monday, October 26, 2026
প্রচ্ছদ ব্যবসা বানিজ্য নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে, রোজায় সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার প্রত্যাশা

নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে, রোজায় সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার প্রত্যাশা

পবিত্র মাহে রমজান সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরের আমদানি এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ এসব নিত্যপণ্যের আমদানি বৃদ্ধির ফলে রোজায় বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও মসুর ডালের দাম কমেছে এবং ভোজ্যতেল ও চিনির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় ও শুল্ক কাঠামোর বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তে এসব চিত্র উঠে আসে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেল, ডিম, ডাল, ছোলা, খেজুর ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আসন্ন রমজানে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং আমদানি ও শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।

আমদানি ও এলসিতে অগ্রগতি

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

এ সময়ে মোট ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ দশমিক ২৩ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের ৭ দশমিক ০৫ লাখ মেট্রিক টনের তুলনায় ১ দশমিক ১৮ লাখ মেট্রিক টন বেশি। ভোজ্যতেলের এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ০৫ লাখ মেট্রিক টনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৩১ লাখ মেট্রিক টন বেশি।

এছাড়া সয়াবিন বীজ আমদানি হয়েছে ৫ দশমিক ০১ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ১৩ লাখ মেট্রিক টন বেশি। চিনি আমদানি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৭ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫৩ লাখ মেট্রিক টন বেশি। চিনির এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১০ লাখ মেট্রিক টনে।

রমজানে ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ ছোলার আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ০ দশমিক ৮২ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ০ দশমিক ১২ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ০ দশমিক ৭০ লাখ মেট্রিক টন। এ সময়ে ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ১ দশমিক ৩৮ লাখ মেট্রিক টন।

অন্যদিকে, মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ দশমিক ২২ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ০ দশমিক ৬৪ লাখ মেট্রিক টন বেশি। মসুর ডালের এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৪ লাখ মেট্রিক টনে। খেজুর আমদানি হয়েছে ০ দশমিক ১১ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ০ দশমিক ০৪ লাখ মেট্রিক টন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবেসিক-জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ