
দুর্গাপূজার লম্বা ছুটি শেষে দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতন দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (২৬ অক্টোবার) শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতনের সঙ্গে কমেছে লেনদেনের গতি। এর মাধ্যমে ছুটির পর লেনদেন হওয়া দুই কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে পতন হলো।প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংক, বিমাসহ সব খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ডের দাম কমেছে। ফলে মূল্যসূচকের মোটামুটি বড় পতন হয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। মূল্যসূচক কমলেও এই বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
এর আগে ছুটি শুরু হওয়ার আগের কার্যদিবস ১৯ অক্টোবর শেয়ারবাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। অবশ্য তার আগে বাজারে অনেকটাই টানা দরপতন হয়। গত ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়নি।
লম্বা ছুটি শেষে রোববার (২৫ অক্টোবার) থেকে আবার লেনদেন শুরু হয়েছে। ছুটির পর প্রথম কার্যদিবস রোববার শেয়ারবাজারে এক প্রকার ঢালাও দরপাতন হলেও বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ার দাম বাড়ে। ফলে বড় পতনের হাত থেকে রক্ষা পায় সূচক।
এর পরিস্থিতিতে সোমবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। ফলে লেনদেনের শুরুর দিকেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। লেনদেনের শেষদিকে দরপতনের মাত্রা আরও বাড়ে। ফলে ঢালাও দরপতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ৭৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৫৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৩৯টির দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫২টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬০টির এবং ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ২টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৮টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯০ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৩ লাখ টাকার। ১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সিটি ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, মতিন স্পিনিং, ওরিয়ন ফার্মা, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং মালেক স্পিনিং।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫০টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯৭টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২২ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৬ কোটি ১২ লাখ টাকা।


